পণ্যের বিস্তারিত তথ্য
উপাদানসমূহ
(প্রতি কেজি সেফ জিংক-এ দস্তা (জিংক) ২১%, গন্ধক (সালফার) ১০.৫% রয়েছে। সেফ জিংক অতি সহজে পানিতে দ্রবনীয়।)
জমিতে সুষম সারের অভাব থাকলে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ইত্যাদি সার যতই দেওয়া হোক না কেন গাছপালা, ফসল ইত্যাদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাড়তে পারে না। ফলে ফসলের ফলন অনেক কমে খায়। স্যাঁতসেতে, ভেজা, বালু মাটিতে প্রধানতঃ দস্তা (জিংক) ও গন্ধক (সালফার) সারের অভাব থাকে। এর অভাবে বিভিন্ন ফসলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ধান, গম, আখ, পাট, আলু, পটল, তুলা ও বিভিন্ন ফুলের বাগানে সাধারনতঃ দস্তা ও গন্ধক এর প্রয়োজন খুব বেশী হয়।)
সেফ জিংক ব্যবহারের সুবিধাবলী
জিংক এনজাইম গঠিত কার্যাবলির সাথে জড়িত।
ইহা ডিহাইড্রোজিনেজ ও কার্বলিক অ্যানহাইড্রেজ এনজাইমের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তার করে।
ইহা অক্সিজেন বিপাকের সহিত জড়িত।
রাইবোজোমাল ভগ্নাংশ সমূহের স্থায়িত্বে জিংক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
জিংক এর অভাবজনিত লক্ষণ সমূহ
নীচের দিকে পাতা সমূহে বাদামী দাগ এবং স্ট্রীক দেখা যায়। ফলে বৃদ্ধি থেমে যায় যদিও কুশি উৎপাদন চলতে থাকে।
পাতার ব্লেডের আকার ছোট হয়ে আসে কিন্তু পাতার সীথ কম প্রভাব বিস্তার করে। জিংক এর অভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি অসম হয় এবং মাঠ ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।
কচি পাতার মধ্যশিরা বিশেষ করে শিরার গোড়ার দিকে ক্লোরেটিক হয়ে যায়।
ধানের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি থেমে যায়, গাছের অসম উচ্চতা, বিলম্বিত পরিপক্কতা, নীচের পাতায় বাদামী দাগ দেখা যায়।
ভুট্টার ক্ষেত্রে সাদাকুড়ি, আলুর ক্ষেত্রে পাতা ক্ষুদ্র হয়। সাইট্রাসে পাতার মটলিং হয়।
প্রয়োগেক্ষেত্র: ধান, গম, ভুট্টা, আলু, ইক্ষু, বেগুন, কুমড়া, পটল, করলা, মরিচ, পেঁয়াজ, আম, কলা, আনারস, তরমুজ, তুলা, চা ইত্যাদি ফসল।
প্রয়োগমাত্রা ও বিধি
একর প্রতি ৩-৫ কেজি সেফ জিংক (জিংক সালফেট) প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়া যায়। জিংকের অভাব বেশি হলে পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগমাত্রা আরো বাড়াতে হবে।
প্রয়োগ পদ্ধতি
জমি তৈরীর সময় বীজ বপনের আগে সেফ জিংক সার ছিটিয়ে দিতে হবে। লাইন প্রতায় রোপন করার ক্ষেত্রে শুধু লাইনের মাটিতে সেফ জিংক প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর মাটিতে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। টিএসপি ছাড়া অন্য যে কোন সারের সাথে মিশিয়ে সেফ জিংক প্রয়োগ করা যায়। সাধারনতঃ প্রতি একরে ৪ থেকে ৬ কেজি সেফ জিংক প্রয়োগ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। তবে সমস্ত জমিতে দস্তা ও গন্ধক সারের অভাব খুব বেশী সেখানে এর দ্বিগুণ পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে।
গুদামজাতকরন
শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।
সাবধানতা
শিশু ও গহপালিত পশু-পাখির নাগালের বাইরে রাখুন। খাদ্য সামগ্রী থেকে দূরে রাখুন।
দ্রষ্টব্য
অ-অনুমোদিত মাত্রা বা সংরক্ষণের ত্রুটিজনিত কারনে কোন ক্ষতি হলে অত্র কোম্পানি কোন দায়-দ্বায়িত্ব বহন করবে না।
